কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে ভাড়া বাড়ির কেয়ারটেকারের আমৃত্যু কারাদণ্ড
কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে ভাড়া বাড়ির কেয়ারটেকারের আমৃত্যু কারাদণ্ড….
চার বছর আগে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন আগানগর এলাকায় ১৩ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় ভুক্তভোগীর ভাড়া বাসার কেয়ারটেকার মো. সাঈদ মোল্লার (৬০) আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আজ বুধবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় দেন। দণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায়ে আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে ঢাকার জেলা প্রশাসককে ক্ষতিগ্রস্ত ভিকটিমকে দেওয়া নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর তাকে আবারও সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. এরশাদ আলম (জর্জ) এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ভিকটিম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আগানগর এলাকায় এক বাড়িতে পরিবারসহ ভাড়া থাকতেন। ওই বাড়িতে আসামি মো. সাঈদ মোল্লা কেয়ারটেকার হিসাবে কাজ করতেন। আসামি প্রায়ই ভিকটিমকে কু-প্রস্তাব দিতেন। ২০২১ সালের ২ আগস্ট ভিকটিম তার ছোট ভাইকে খোঁজার জন্য বাসার নিচে যায়। এসময় আসামি ভিকটিমকে কৌশলে বাসার ছাদে নিয়ে র্ষণ করেন। ধর্ষণের পরে ভিকটিমকে আসামি সাঈদ মোল্লা ঘটনা কাউকে বললে তাকে হত্যা করার হুমকি দেন। ভিকটিম হত্যার ভয়ে ঘটনা কাউকে বলেননি। পরবর্তীতে একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর পুনরায় ধর্ষণ করেন। ভিকটিম তখন কান্নাকাটি ও চিৎকার করলে আসামি দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। ওই ঘটনায় একই বছরে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
২০২২ সালের ৩১ আগস্ট দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মো. আলী জিন্নাহ আসামি সাঈদ মোল্লাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলাটির বিচার চলাকালে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।


আপনার মতামত লিখুন