পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ৩০৭ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট, ২০২৫, ২:০১
পাকিস্তানে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ৩০৭ জনের মৃত্যু

পাকিস্তান ও পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে ভারী বর্ষণের কারণে বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনওয়া প্রদেশে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে অন্তত ৭৪টি ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। উদ্ধার তৎপরতার সময় একটি হেলিকপ্টার ভেঙে পড়লে পাঁচজন ক্রু নিহত হন। মৃতদের মধ্যে নয়জন পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের এবং আরও পাঁচজন গিলগিট-বালিস্তান এলাকায় প্রাণ হারিয়েছেন।
(সূত্র: বিবিসি)

পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত দেশের উত্তর-পশ্চিম এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। সেখানকার কিছু এলাকাকে দুর্যোগপ্রবণ ঘোষণা করা হয়েছে।

বুনেরা এলাকায় বেঁচে যাওয়া আজিজুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, এমন বন্যা হয়েছিল- যেন ‘কিয়ামত’। তিনি আরও বলেন, ‘আমি শক্তিশালী শব্দ শুনেছি। মনে হয়েছে, যেন পাহাড় ধসে পরছে। আমি বাইরে বের হয়ে দেখি, পুরো এলাকা ধসে গেছে।’

আজিজুল্লাহ বলেন, ‘পানির তোড়ে মাটি ধসে গেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, মৃত্যু আমাকে এই বুঝি ধরে ফেলল।’

খাইবার পাখতুনওয়ার প্রধানমন্ত্রী আলী আমিন গাদাপুর বলেছেন, দুর্যোপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আফগানিস্তানের কাছাকাছি বাজাপুরে একটি এম-১৭ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। খাইবার পাখতুনওয়া একদিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে ভারতশাসিত কাশ্মীরে গতকাল শুক্রবার হিমালয়ের পাশের একটি গ্রামে বন্যায় কমপক্ষে ৬০ জন নিহত হন। এছাড়া আরও কয়েকজন পানির তোড়ে ভেসে গেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার বার্ষিক বৃষ্টিপাতের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসে হয়। এবারের ভূমিধস ও বন্যায় ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন।

পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৫৫ মিলিয়ন, যার অর্ধেকের মতো বাস করে পাঞ্জাব প্রদেশে। এ অঞ্চলে গত বছরের তুলনায় ৭৩ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ কারণে এবারের বর্ষায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেই আবহাওয়া অস্বাভাবিক রূপ নিচ্ছে। এর ফলেই কখনো অতিবৃষ্টি, আবার কখনো তীব্র খরার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।