বিএনপি না জামায়াত – নির্বাচনে কে জিতবে? ভোটের ফল ঘুরিয়ে দিতে পারে এই পাঁচ ইস্যু

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫৭
বিএনপি না জামায়াত – নির্বাচনে কে জিতবে? ভোটের ফল ঘুরিয়ে দিতে পারে এই পাঁচ ইস্যু

বাংলাদেশের ভোটাররা বৃহস্পতিবার ভোটকেন্দ্রে যাবেন। প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার আছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনার পতনের পর দেশ গণতন্ত্রে ফেরার পথে। এই নির্বাচন সেই প্রত্যাবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রায় ১৮ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করছে। এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে এবার মূল প্রশ্ন হয়তো একটিই – কে জিতবে, বিএনপি না জামায়াতে ইসলামী?

তবে রয়টার্স এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে কয়েকটি ইস্যু, যেগুলোর সমাধানই ঠিক করে দিতে পারে নির্বাচনের গতিপথ।

ঢাকাভিত্তিক কমিউনিকেশন রিসার্চ ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ ইলেকশনস অ্যান্ড পাবলিক অপিনিয়ন স্টাডিজের সাম্প্রতিক এক মতামত জরিপে দেখা গেছে, ভোটারদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ দুর্নীতি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের করাপশন পারসেপশন ইনডেক্সে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ অবস্থানে রয়েছে।

নির্বাচনে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী—উভয় দলই দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে প্রচারের কেন্দ্রবিন্দু করেছে। জামায়াতে ইসলামীর দুর্নীতিবিরোধী ভাবমূর্তি দলটির পুনরুত্থানে সহায়ক হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে। জরিপে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশের বেশি উত্তরদাতা ‘দাম’ বা ‘পণ্যমূল্য’কে তাঁদের দ্বিতীয় বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন

একসময় এশিয়ার দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলোর একটি ছিল বাংলাদেশ। কোভিড–১৯ মহামারির পর রপ্তানিনির্ভর তৈরি পোশাক খাত বড় ধাক্কা খায়। সেই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা পোশাক খাতকে আরও ব্যাহত করে। এর প্রভাব পড়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর। ভোটাররা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে তাঁদের তৃতীয় বড় উদ্বেগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কর্মসংস্থান

বাংলাদেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ৩০ বছরের নিচে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর লাখো তরুণের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা আগামী সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা

শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। হাসিনা বলেছেন, তাঁর দলের অনুপস্থিতিতে লাখো সমর্থক প্রার্থীহীন হয়ে পড়বেন। এতে অনেকেই নির্বাচন বর্জন করতে পারেন। কিছু ভোটার ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, ব্যাপক বর্জনের সম্ভাবনা কম। বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক আওয়ামী লীগ ভোটাররাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, সাবেক আওয়ামী লীগ ভোটারদের প্রায় অর্ধেক এখন বিএনপিকে সমর্থন করছেন। এরপর প্রায় ৩০ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ঝুঁকেছেন।