ভুয়া এতিম দেখিয়ে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর, ২০২৫, ১১:৩৮
ভুয়া এতিম দেখিয়ে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ

ভুয়া এতিম দেখিয়ে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ…

কক্সবাজার সদর উপজেলার বাচামিয়ারঘোনা মনিরা খাতুন এতিমখানায় সরকারি অনুদানের যথেচ্ছ ব্যবহার ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদক সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, এখানে মাত্র ৪-৫ জন প্রকৃত এতিম শিশু রয়েছে। অথচ বাবা-মাতা থাকা সত্ত্বেও প্রায় ২০-২৫ জনকে এতিম হিসেবে কাগজে দেখানো হয়েছে। তবে এতিম শিশুদের জন্য শুধু দুইজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-২০১৭ সালে এতিমখানায় ৩৬ জন শিশু ছিলেন। ২০১৭-২০২১ সালে সংখ্যা বেড়ে ৪০ জন হয়। সর্বশেষ ২০২১ থেকে বর্তমান পর্যন্ত এতিমের সংখ্যা ৬০ জন দেখানো হয়েছে, যদিও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। এই ৬০ জন শিশুদের জন্য সরকারি অনুদান প্রতি মাসে প্রায় একলক্ষ ১৮ হাজার টাকা আসে, যা প্রতি শিশু দুই হাজার টাকা হিসেবে বরাদ্দ।

এতিমখানার হিফজ বিভাগের ছাত্র ও খুরুশকুল ইউনিয়নের শামীম, হামীম ও রামীম নামে তিন শিশুকে এতিম দেখানো হলেও তাদের বাবা আছেন। পরিবার জানায়, বাবা কাজ করতে অক্ষম হওয়ায় তাদের পড়াশোনা ও খাদ্য সরবরাহের জন্য এই শিশুরা এতিমখানায় রাখা হয়েছিল। যেসব শিশুকে এতিম হিসেবে দেখানো হয়েছে তাদের অধিকাংশ প্রকৃতপক্ষে এতিম নয়। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন শিশুর পরিবারও এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শহরের মহাজের পাড়ার আলিফুর রহমান (১৪) নামের এক শিশুর বাবা জানান, কোন ধরনের টাকা দেয়ার নিয়ম না থাকলেও তিনি মাসে ৩০০ টাকা প্রদান করেন এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বেশি দিতে পারছেন না।

মনিরা খাতুন এতিমখানার বর্তমান পরিচালক রহমতুল্লাহ রিজভী অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, “আমার এতিমখানায় বর্তমানে ১২৫ জন শিশু তিন বেলা খাবার খাচ্ছে, কিন্তু সরকারি অনুদান আসছে মাত্র ৬০ জন শিশুদের নামে।”

এছাড়া নিজের দোষ স্বীকার করে তিনি তার অদক্ষতার কারনে এমন হচ্ছে বলে দাবী করেন। বাপ দাদারা সম্পদ বিক্রি এই মাদ্রাসা করেছেন বলে দাবী তার। তবে সমাজ সেবা থেকে দুইবার ডেকে চাঁদা নেয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছে বলেও প্রতিবেদককে স্বীকার করেন। সমাজ থেকে প্রতিষ্টান বন্ধের হুশিয়ারি দেন বলেও জানান পরিচালক রহমতুল্লাহ রিজভী।

এই বিষয়ে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক প্রশাসন (এডমিন) মোঃ শফি উদ্দিন জানিয়েছেন, “এর আগেও এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। এক সপ্তাহের মধ্যে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

যদিও তিনি বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কর্মকর্তাদের অনুমতি ব্যতীত বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয় এবং প্রতিবেদককে সংবাদ না করার অনুরোধ করেছেন।