ভূমিক্ষয় রোধে কার্যকর ঝাউ গাছ
কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় চোখে পড়ার মতো ঝাউ অরণ্য রয়েছে। অনেকেই জানতে চান—ঝাউ গাছ কেন সমুদ্র তীরে বেশি দেখা যায়? এর পেছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক ও পরিবেশগত কারণ।
গবেষণা বলছে ঝাউ গাছ উপকূল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর গভীর শিকড় মাটিকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে, ফলে ভূমিক্ষয় রোধ হয় এবং জলোচ্ছ্বাস কিংবা তীব্র বায়ুপ্রবাহেও ভূমি টিকে থাকে।
সম্প্রতি কক্সবাজারের লাবণী, কলাতলী ও মেরিন ড্রাইভ এলাকায় সাগরের জোয়ারে ঝাউ বাগান ডুবে যেতে দেখা গেছে। এতে সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থাপনা বিলীন হয়েছে। পরিবেশবিদরা মনে করেন, এই ঝাউ অরণ্য না থাকলে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ অনেক আগেই উপকূলের অবকাঠামো ভেঙে ফেলত।
ঝাউ গাছের পরিবেশগত উপকারিতা:
-
ভূমিক্ষয় রোধ করে।
-
উপকূলের ভূমি রক্ষা করে।
-
সমুদ্র তীরে প্রাকৃতিক সুরক্ষা দেয়।
-
বাতাস নিয়ন্ত্রণ ও মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঝাউ শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, কক্সবাজার, কুয়াকাটা বা সুন্দরবনের সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যেও ভূমিকা রাখে। বাতাসে শিস দেয়ার মতো শব্দ তুলেই এর নাম হয়েছে Whistling Pine।
অর্থাৎ, একপাশে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আর অন্যপাশে দীর্ঘ ঝাউ অরণ্য—এই মিলিত দৃশ্য শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই নয়, বরং উপকূল রক্ষার এক অদৃশ্য ঢাল হিসেবেও কাজ করছে।


আপনার মতামত লিখুন