মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ১ম স্ত্রীর কাবিনের জন্য আদালতে মামলা

স্টাফ রির্পোর্টার:
প্রকাশ: ৬ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:১৬
মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ১ম স্ত্রীর কাবিনের জন্য আদালতে মামলা

বহু নারীতে আসক্ত  মহিউদ্দিন এর বিরুদ্ধে এবার আদালতে আশ্রয় নিয়েছেন তার প্রথম স্ত্রী ফারজানা। বিয়ের দীর্ঘদিন অতিবাহিত হয়ে গেলে ও প্রথম স্ত্রীকে এখনো কাবিননামা না দেওয়া ও যৌতুকের জন্য নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাদের সংসারে রয়েছে জমজ দুটি পাচঁ বছরের ছেলে মেয়ে। আদালত ১ম স্ত্রীর অভিযোগ আমলে নিয়ে সমন জারি করেছে ইতিমধ্যে।

অভিযুক্ত মহিউদ্দিন(৩০) পিতা আব্দুল মান্নান রামু উপজেলার মধ্যম খুনিয়া পালং ৩নং ওয়ার্ডের জলকাদের সওদাগর পাড়ার বাসিন্দা। নির্যাতনের সর্বশেষ যৌতুকের জন্য রক্তাক্ত মারধর করে ঘর থেকে বের করে দিলে ১ম স্ত্রী ফারজানা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে আইনের আশ্রয় নেন।

অভাব অনটনের সংসারের আয়রোজগার বাড়াতে ২০১২ সালে নৌপথে মালয়েশিয়া পাড়ি জমান অভিযুক্ত মহিউদ্দিন।  প্রবাসে থাকা অবস্থায় মোবাইলের মাধ্যমে পরিচয় হয় কক্সবাজার সদর এর বাস টার্মিনাল এলাকার মোহাম্মদ ইসমাঈলের দশম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে ফারজানা ইয়াসমিনের(২৪)সাথে। সম্পর্কের এক পর্যায়ে ভালোবাসার মোহে একা বাড়ি ছাড়েন ফারজানা। মহিউদ্দিন মালয়েশিয়া হতে ফারজানাকে বাসা ভাড়া নিয়ে রাখেন একবছর। বাড়ির কাউকে না জানিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় পরিবারের কারোর সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ ছিলোনা ফারজানার সাথে। মহিউদ্দিন মালয়েশিয়া থাকা অবস্থায় তাদের এক নিকটাত্মীয় মহিলার মাধ্যমে বর ছাড়া কাজি অফিসে ভুয়া কাবিন করার চেষ্টা করা হয়। কথা ছিলো মহিউদ্দিন প্রবাস হতে এসে নিজে দস্তখত করে ওই কাবিন নামা সম্পূর্ণ করে ফারজানাকে ঘরে তুলে নিবেন। ২০১৯ সালে ৩০ আগষ্ট দেশে ফিরেন অভিযুক্ত মহিউদ্দিন।  কাবিননামা না করে মৌলানা ডেকে আক্বদ পড়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে যায় লম্পট মহিউদ্দিন।  কাবিন নামার কথা তুললে আজ দিবো কাল দিবো বলে কাল ক্ষেপন করে দিন অতিবাহিত করে সে। ফারজানার পিতার পরিবার হতে ফারজানার সাথে কারোরই যোগাযোগ না থাকার সুবাধে সে বেপরোয়া হয়ে উঠে দিনদিন। শুরু হয় যৌতুকের জন্য নির্যাতন। কাবিনের কথা বললেই মোটা অঙ্কের যৌতুক এনে দেওয়ার চাপ দিতো প্রতিনিয়ত। অসহায় ফারজানার সাথে তার পিতার পরিবারের কোন প্রকার যোগাযোগ না থাকায় দিনের পর দিন এ অমানুষিক নির্যাতন সহ্য করে পরিবারের অমতে পালিয়ে যাওয়ার খেসারত দিয়ে আসছিলো সে। এভাবে চলতে চলতে একসময় তাদের সংসারে আলো করে দুটি জমজ সন্তান আসে দুনিয়ায়। একটি ছেলে অপরটি মেয়ে। তাদের বয়স এখন পাঁচ বছর। এরই মধ্যে সে বহু নারীর সাথে সম্পর্কে জড়ায়, যার প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। ১ম স্ত্রীর সামনে প্রেমিকার সাথে অশালীন চ্যাটিং,ফোনালাপ নিত্যনৈমত্তিক বিষয় ছিলো মহিউদ্দীনের।২০২৪ সালের ২৩ আগষ্ট লামা উপজেলার আজিজনগর হতে প্রেমিকার ছোটবোনকে বিয়ে করে ঘরে নিয়ে আসে লম্পট মহিউদ্দিন। ১ম স্ত্রীর অনুমতি না নেওয়ায় প্রতিবাদ করলে শুরু হয় ফারজানার উপর অমানুষিক নির্যাতন। এমন ও দিন গেছে ফারজানাকে গোয়ালঘরে রাত কাটাতে হয়েছে নির্যাতনের ভয়ে। বর্তমানে শরীয়াহ অনুসারে দুটি স্ত্রী থাকার পরও আরো বহু নারীর সাথে তার প্রেমের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগ মহিউদ্দিনের ১ম স্ত্রী ফারজানার। সর্বশেষ রমজানের রোজা রাখা অবস্থায় রক্তান্ত জখম করে মেরে ঘরে বন্দী করে রাখে যাতে চিকিৎসা ও করাতে না পারে ফারজানা। কৌশলে পালিয়ে এসে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে ওখানে এসে হাজির হয় মহিউদ্দিন।  চিকিৎসা না করিয়ে টেনে হিঁচড়ে বাড়ি নিয়ে যেতে চাইলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে তাকে। ওখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যায় লম্পট স্বামী মহিউদ্দিন। চিকিৎসা শেষে যৌতুকের জন্য নির্যাতন ও কাবিন আদায়ের আশায় আইনের আশ্রয় নেয় অসহায় ফারজানা। বহু অপকর্মের হোতা লম্পট মহিউদ্দিন কাবিন না দেওয়ার জন্য ও মামলা থেকে রেহায় পেতে বিশাল অঙ্কের টাকার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে বলে অভিযোগ ফারজানার নিকট আত্মীয় স্বজনদের। ফেইক ফেইসবুক আইডি খোলে ফারজানা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ ও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এবিষয়ে অভিযুক্ত মহিউদ্দিন এর মুঠোফোনে জানতে চাইলে সে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। এসব ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বলে জানান সে। ১ম স্ত্রীকে এখনো কাবিন কেন দেওয়া হয়নি জিজ্ঞেস করলে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। ফারজানাকে মারধরের বিষয়ে জানতে চাইলে সে জানায় ঐদিন আমি তাকে মারিনি, আমার বাবা মা ই আমার ১ম স্ত্রীকে মেরে রক্তাক্ত করেছে।সাক্ষাতে কথা বলবো বলে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন তিনি।