মার্কিন ট্যাংকারের পর এবার ইরাকের বন্দরে আরেক তেল ট্যাংকারে হামলা
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইরান। একই সময়ে ইরাকের খোর আল-জুবায়ের বন্দরে একটি তেল ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এই ঘটনায় তেল ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এদিকে যুদ্ধ বিস্তারের কোনও পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ নাকচ করেছে ইরাকের কুর্দিস্তানের আঞ্চলিক সরকার। খবর আল জাজিরা
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘পারস্য উপসাগরের উত্তরে জাহাজটিতে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে এবং বর্তমানে এটিতে আগুন জ্বলছে’। আইআরজিসি জানিয়েছে, উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ রয়েছে।
অবশ্য হামলার এই ঘটনাটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অর্গানাইজেশন (এমটিও) এর আগে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে কুয়েতের উপকূলে, উত্তর উপসাগরে একটি ট্যাংকারে হামলা করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, নোঙর করা একটি ট্যাংকারে বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে দেখা গেছে একটি ছোট জাহাজ ওই এলাকা ছেড়ে চলে গেছে। কার্গো ট্যাংক থেকে পানিতে তেল ছড়িয়ে পড়ছে যা পরিবেশগত প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের কোনেও খবর পাওয়া যায়নি এবং ক্রুরা নিরাপদ এবং সুস্থ আছেন।
এদিকে ইরাকের খোর আল-জুবায়ের বন্দরে বাহামার পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এক ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, ওই ট্যাংকারে আঘাতের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং তেল ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে ইরাকের কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে, যুদ্ধ আরও বিস্তারের কোনও প্রচেষ্টার সঙ্গে তারা জড়িত নয়। পশ্চিম ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে কুর্দি যোদ্ধারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরামর্শ করেছে বলে প্রতিবেদনের পর তারা এই অবস্থান স্পষ্ট করল।
এছাড়া বার্তাসংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃত এক বিবৃতিতে আঞ্চলিক সরকারের মুখপাত্র বলেন, চলমান যুদ্ধকে সম্প্রসারিত করা বা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ানোর কোনও উদ্যোগে তাদের কোনও ভূমিকা নেই।
এর আগে আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানি বলেছিলেন, অঞ্চলটি ‘এমন কোনও সংঘাত বা সামরিক উত্তেজনার অংশ হওয়া উচিত নয়, যা আমাদের নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তার ক্ষতি করে।’


আপনার মতামত লিখুন