সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর ট্রাম্পের নতুন ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কারোপ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তার আরোপ করা পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্বব্যাপী নতুন ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন। শুক্রবার ওভাল অফিসে বসে নির্বাহী আদেশে সই করার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন তিনি। জানান, আদেশটি প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের রায়ে তার আরোপ করা পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিশ্বব্যাপী নতুন ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন। শুক্রবার ওভাল অফিসে বসে নির্বাহী আদেশে সই করার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন তিনি। জানান, আদেশটি প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতোমধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করা দেশগুলোকেও এখন সেকশন ১২২-এর অধীনে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক দিতে হবে। এর আওতায় রয়েছে যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ ও জোট। ফলে পূর্বনির্ধারিত কিছু চুক্তিতে শুল্কহার কমে যেতে পারে—যেমন জাপানের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ ও ভারতের ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশের পরিবর্তে এখন ১০ শতাংশ প্রযোজ্য হবে।
এর আগে শুক্রবারই সুপ্রিম কোর্ট অব দ্য ইউনাইটেড স্টেট ৬–৩ ভোটে ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ককে অবৈধ ঘোষণা করে। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মত দেন, প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন। রক্ষণশীল প্রধান বিচারপতি জন রোবারর্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের পক্ষে অবস্থান নেন। ট্রাম্পের মনোনীত বিচারপতি অ্যামি কনি ব্যারেট ও নিল গোরসুচও রায়ের পক্ষে ভোট দেন।
আদালতের এ সিদ্ধান্তে শুল্কবিরোধী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি অঙ্গরাজ্য বড় আইনি জয় পেয়েছে। ইতোমধ্যে পরিশোধ করা শত শত কোটি ডলার ফেরতের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইনি লড়াই ছাড়া অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না এবং বিষয়টি দীর্ঘদিন আদালতে গড়াতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানায়, ১৯৭৭ সালের আইনের সেকশন ১২২ প্রেসিডেন্টকে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপের ক্ষমতা দেয়। নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। আদেশে কিছু খনিজ, কৃষিপণ্য, ওষুধ, নির্দিষ্ট ইলেকট্রনিক পণ্য ও কিছু যানবাহনে শুল্কছাড়ের কথা বলা হলেও বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসন ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তা ও অন্যায্য বাণিজ্য চর্চার অভিযোগে সেকশন ২৩২ ও ৩০১-এর মতো অন্যান্য আইনি হাতিয়ারও ব্যবহার করতে পারে। আদালতের রায়ের পর ওয়াল স্ট্রিটে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়, তবে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন