‘ফুটবল হারাম’ বলে জাতীয় নারী ফুটবলারের পায়ের রগ কেটে দিলো দুর্বৃত্তরা!

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: ২৪ জুলাই, ২০২৫, ৩:৫৪
‘ফুটবল হারাম’ বলে জাতীয় নারী ফুটবলারের পায়ের রগ কেটে দিলো দুর্বৃত্তরা!

জাতীয় নারী ফুটবলার পারভীন সুলতানার ওপর বর্বর হামলায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া
ধর্মীয় উগ্রতার অভিযোগে ছুরিকাঘাত ও রগ কেটে আহত, ফুটবল ক্যারিয়ার অনিশ্চয়তায়

বাংলাদেশের জাতীয় নারী ফুটবল দলের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড় পারভীন সুলতানার ওপর মহেশখালীতে ঘটে যাওয়া নৃশংস হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, পারভীনকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে শুধুমাত্র সে ফুটবল খেলে—এমন অভিযোগে। বলা হয়েছে, ‘ফুটবল খেলা ইসলামে হারাম’ এই যুক্তি তুলে ধরে হামলাকারীরা তার বাম পায়ের রগ কেটে দেয় এবং ছুরিকাঘাত করে।

জাতীয় দলের একজন উদীয়মান স্ট্রাইকার হিসেবে পরিচিত পারভীন এই হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। তার জীবন ও ফুটবল ক্যারিয়ার এখন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। তবে এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি, যা অনেকের মাঝেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এই বর্বর হামলা বাংলাদেশের নারী খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে চলমান প্রতিবন্ধকতা ও নিপীড়নের আরেকটি করুণ উদাহরণ।

নারী ফুটবলারদের সামনে বারবার উঠে আসে ধর্মীয় গোঁড়ামি, সামাজিক রক্ষণশীলতা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো চ্যালেঞ্জ। এর আগেও জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে তিলকপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নারী ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের সময় একদল ধর্মীয় গোষ্ঠী ভাঙচুর চালিয়ে ম্যাচ বাতিলের দাবি তোলে। যদিও পরবর্তীতে প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং অভিযুক্তরা ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে বাধা না দেওয়ার আশ্বাস দেয়।

পারভীন সুলতানার ওপর হামলার ঘটনা নারী ক্রীড়াঙ্গনে নিরাপত্তাহীনতার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। সমাজের নানা স্তর থেকে দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠছে।