শরতের প্রথম দিন আজ
ঋতুর রানি’ নামে পরিচিত শরতের সূচনা আজ। ভাদ্র ও আশ্বিন মাস মিলে গড়ে ওঠে ঋতুচক্রের তৃতীয় পর্ব—শরৎকাল। খ্রিষ্টীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগস্টের মধ্যভাগ থেকে অক্টোবরের মধ্যভাগ পর্যন্ত সময়কে শরৎ ঋতু ধরা হয়।
আষাঢ়-শ্রাবণের বৃষ্টিমুখর দিন শেষে শুরু হয় শরৎ। প্রকৃতি হয়ে ওঠে শুভ্র ও সবুজ। ঘাসের বনে বাতাসে দোলে সাদা কাশফুল। এমন মোহনীয় সৌন্দর্যের জন্যই শরৎকে ঋতুর রানি বলা হয়। শরতের রূপের প্রেমে পড়ে নাই এমন হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না।
অনেক কবি-সাহিত্যিক শরৎ নিয়ে সাহিত্য রচনা করেছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার লেখায় শরৎকে এভাবে উপস্থাপন করেছেন– ‘আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ, আমরা গেঁথেছি শেফালিমালা, নবীন ধানের মঞ্জরী দিয়ে সাজিয়ে এনেছি ডালা। এসো গো শারদলক্ষ্মী, তোমার শুভ্র মেঘের রথে, এসো নির্মল নীলপথে…’।
কবি বিনয় মজুমদার তার কবিতায় লিখেছেন– ‘শরতের দ্বিপ্রহরে সুধীর সমীর-পরে জল-ঝরা সাদা সাদা মেঘ উড়ে যায়; ভাবি, একদৃষ্টে চেয়ে, যদি ঊর্ধ্ব পথ বেয়ে শুভ্র অনাসক্ত প্রাণ অভ্র ভেদি ধায়!’
এ ছাড়া শরৎ মানে গাছে গাছে পাকা তাল। সেই তাল দিয়ে তৈরি হয় পিঠা-পায়েস। সঙ্গে ক্ষেতে আমন ধানের বেড়ে ওঠা চারা। শরতের রাতে জ্যোৎস্নার বিমোহিত রূপও অভাবনীয়।
শরৎকালেই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধানতম উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা পালিত হয়। এ সময় উৎসবের আমেজে চারপাশ ভরে ওঠে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে, আবার বিজয়া দশমীর বিদায়ের সুরে পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে এক বিশেষ বেদনাবোধ।


আপনার মতামত লিখুন