ঢাকা ১৮ আসনে এনসিপি প্রার্থীর ওপর হামলার অভিযোগ
রাজধানীর খিলক্ষেত থানার ডুমনি বাজার এলাকায় ঢাকা-১৮ আসনে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ জোটের প্রার্থী ও এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিবের উপর বিএনপি নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে ওই এলাকায় গণসংযোগের সময় এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ‘খিলক্ষেত থানার ডুমনী নূরপাড়া এলাকায় বিএনপির লোকজন হামলা করেছে। এ সময় আমার সহযোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এখান থেকে আমার লাশ যাবে তবুও প্রোগ্রাম করে যাব।’
বিএনপি প্রার্থী এসএম জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আদীবের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি হামলার কথা বলেছেন। ঘটনাটি তদন্তে আমি ইতিমধ্যেই তদন্ত টিম গঠন করে দিয়েছি। দিদারকেও ডেকেছি। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ডিএমপির খিলক্ষেত থানার এসআই রাজু আহমেদ বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। তবে মারামরির খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’
হামলার ঘটনায় এনসিপির নিন্দা
১০ দলীয় জোটের পক্ষে আরিফুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে এনসিপি। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকালে খিলক্ষেত থানার ডুমনি নূরপাড়া এলাকায় একটি এতিমখানা পরিদর্শন ও গণসংযোগের সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা দিদার মোল্লার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে জোটের অন্তত দুইজন কর্মী গুরুতর আহত হন।
বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে, ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তার নেতাকর্মীরা নিয়মিত বিভিন্নভাবে জোটের কর্মীদের নির্বাচনী প্রচারণার সময় বাধা দিয়ে আসছে। গত দুইদিনে বিএনপির নেতাকর্মীরা আবদুল্লাহপুরে একজন জামায়াত কর্মীর উপর হামলা করে গুরুতর আহত, খিলক্ষেত বরুয়া এলাকায় নির্বাচনী অফিস উদ্বোধনের সময় মব সৃষ্টি করে বাধা প্রদান, তুরাগের বামনারটেকে নির্বাচনী অফিসের ব্যানার ছিড়ে ফেলা, নিকুঞ্জতে নানাভাবে মহিলা জামায়াত কর্মীদের হুমকি প্রদানসহ নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করেছে। বিষয়টি নিয়ে এস এম জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আশ্বাস দেন। অথচ তার পরদিনই এ হামলা সংঘটিত হলো।
এতে আরও বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একজন এমপি প্রার্থীর উপর হামলায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এনসিপি মনে করে, নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সহিংসতায় রূপ দেওয়া গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই।


আপনার মতামত লিখুন