ইফতারের পর বুকজ্বালা? এই অভ্যাসে পাবেন স্বস্তি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২২
ইফতারের পর বুকজ্বালা? এই অভ্যাসে পাবেন স্বস্তি

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের টেবিলে থাকে নানা রকম খাবার। পেঁয়াজু, বেগুনি, চপ, জিলাপি, ডুবো তেলে ভাজা ও মসলাদার খাবার অনেকেই একসঙ্গে বেশি খেয়ে ফেলেন। হঠাৎ দীর্ঘ সময় খালি থাকার পর পেটে বেশি ও ভারী খাবার গেলে অস্বস্তি, গ্যাস, বুকজ্বালা ও টক ঢেঁকুরের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, রমজানে হজমের সমস্যা এড়াতে খাবার নির্বাচন ও খাওয়ার ধরণে সচেতনতা জরুরি। কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে ইফতারের পর অ্যাসিডিটি বা বুকজ্বালা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

ধীরে ও অল্প করে খান

ইফতার শুরু করুন পানি ও হালকা খাবার দিয়ে। একসঙ্গে অনেক ভাজাপোড়া না খেয়ে ধীরে ধীরে খান। দীর্ঘ সময় খালি থাকার পর হঠাৎ বেশি খেলে পাকস্থলীতে চাপ পড়ে। এতে অতিরিক্ত অ্যাসিড তৈরি হতে পারে।

খাবার ভালো করে চিবিয়ে খেলে হজম সহজ হয়। তাড়াহুড়ো করে খেলে গ্যাসের সমস্যাও বাড়ে।

ভাজাপোড়া কম, সেদ্ধ-গ্রিল বেশি

ইফতারে প্রতিদিন ডুবো তেলে ভাজা খাবার না রেখে বিকল্প বেছে নিতে পারেন। সেদ্ধ ছোলা, ফল, সবজি স্যুপ, গ্রিল করা মুরগি বা মাছ, এসব তুলনামূলক হালকা।

অতিরিক্ত তেল ও ঝাল পাকস্থলীর ভেতরের আস্তরণে জ্বালাপোড়া বাড়ায়। তাই মসলা ও তেল কম এমন খাবারই ভালো।

পর্যাপ্ত পানি পান করুন

রোজায় সারাদিন পানি না খাওয়ার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি।

তবে একসঙ্গে অনেক পানি না খেয়ে অল্প অল্প করে খান। এতে হজম ভালো হয় এবং অ্যাসিডের ভারসাম্য বজায় থাকে।

খাবারের পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়বেন না

ইফতারের পর অনেকেই ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েন। এতে অ্যাসিড উপরের দিকে উঠে বুকজ্বালা বাড়তে পারে।

খাওয়ার পর অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট সোজা হয়ে বসে থাকুন বা হালকা হাঁটাহাঁটি করুন। এতে হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে।

টক ও কার্বোনেটেড পানীয় এড়িয়ে চলুন

অনেকে ইফতারে কোমল পানীয় বা বেশি টক শরবত পান করেন। এসব পানীয় পাকস্থলীতে গ্যাস তৈরি করতে পারে।

এর বদলে সাধারণ পানি, ডাবের পানি বা কম চিনি দেওয়া শরবত বেছে নেওয়া ভালো।

সেহরিতেও সচেতনতা জরুরি

শুধু ইফতার নয়, সেহরিতেও অতিরিক্ত ঝাল-মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। সেহরিতে প্রোটিন, আঁশযুক্ত খাবার ও সহজপাচ্য খাদ্য রাখলে সারাদিন পেটে অস্বস্তি কম হয়।

ওটস, ডিম, কলা, দই, সবজি এসব খাবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং অ্যাসিডিটি কমাতে সহায়তা করে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

যদি নিয়মিত বুকজ্বালা, গিলতে কষ্ট, বমি বা তীব্র পেটব্যথা হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের অ্যাসিডিটি কখনও কখনও জটিল সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

রমজান সংযমের মাস। খাবারের ক্ষেত্রেও সংযম বজায় রাখলে শরীর থাকবে সুস্থ, ইবাদতেও মনোযোগ বাড়বে। সামান্য সচেতনতাই ইফতারের পরের অস্বস্তি থেকে দিতে পারে স্বস্তি।