‘আমাদের গলা কাটা পর্যায়ে চলে এসেছে টেলিটক’
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র মোবাইল অপারেটর টেলিটক এখন ‘গলার কাঁটা’ পর্যায়ে চলে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
সোমবার (১১ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া একটি পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।
ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, ‘রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একমাত্র মোবাইল অপারেটর হিসেবে টেলিটক দেশজুড়ে প্রতিযোগী অপারেটরদের তুলনায় কম স্পেকট্রাম বরাদ্দ পেয়ে নেটওয়ার্ক সেবা প্রদান করছে। প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু থেকে বিভিন্ন সময়ে তার চাহিদা অনুসারে স্পেকট্রাম চেয়েছে। তবে দেশের সার্বিক গ্রাহকসংখ্যা ও নেটওয়ার্ক পরিকাঠামোর পরিসর বিবেচনায় প্রতিটি স্পেকট্রাম ব্যান্ডেই টেলিটক অন্যান্য অপারেটরের তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ বরাদ্দ পায়নি, বরং স্বল্পতর এবং নগণ্য স্পেকট্রাম বরাদ্দ পেয়েছে।’
টেলিটকের তরঙ্গের বিষয়ে ফয়েজ আহমদ লিখেছেন, ‘আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে টেলিটকের ক্ষেত্রে দেখছি যে, মানসম্পন্ন ফোরজি সেবা দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানটির লো-ব্যান্ড তরঙ্গ একেবারেই নেই, মিড-ব্যান্ডে সামান্য তরঙ্গ রয়েছে, অন্যদিকে আপার মিড-ব্যান্ডে প্রাপ্ত তরঙ্গ ব্যবহারের জন্য কোনো বিনিয়োগ ছিল না। আওয়ামী লীগ জি-টু-জি চুক্তিতে কিছু ফান্ড এনেছিল, তবে সেটা দুর্নীতির মাধ্যমে অপখরচ ও লুটপাট করেছে, কিছুই অবশিষ্ট নেই। সব মিলিয়ে বিগত সরকারের আমলে দূরদর্শী পরিকল্পনা এবং পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান বিটিএস সাইট সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় বরাদ্দকৃত স্পেকট্রামের পূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে সুন্দরবন, হাওর ও পার্বত্য অঞ্চলের মতো দুর্গম এলাকায় টেলিটকের নেটওয়ার্ক কভারেজ তুলনামূলকভাবে ভালো থাকায় এবং গ্রাহকসেবার চাহিদা পূরণে বরাদ্দকৃত তরঙ্গের ভালো ব্যবহার হচ্ছে, এসব এলাকায় তরঙ্গের স্বল্পতাও আছে।’
বিশেষ সহকারী আরও লিখেছেন, ‘টেলিটকের স্পেকট্রাম বরাদ্দের বিপরীতে বিটিআরসির বকেয়া অর্থ ইক্যুইটি খাতে অন্তর্ভুক্তির লক্ষে বিগত সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ কর্তৃক অর্থ মন্ত্রণালয়ে ইক্যুইটিতে রূপান্তরের একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিরসন হলে বকেয়া অর্থ সরকারের এক খাত থেকে অন্য খাতে স্থানান্তর করা যাবে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে টেলিটকের স্পেকট্রাম-সংক্রান্ত বকেয়া দায় নিষ্পত্তি করা সম্ভব হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের মতো নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিটকের অনুকূলে তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া যায় কি না, সেটাও বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে, সে ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এরূপ জটিলতা এড়ানো সম্ভব হবে।
চারটি বিষয় আমলে নিয়ে সরকারি মালিকানাধীন সেলুলার মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে তরঙ্গ বরাদ্দের প্রশ্নে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পলিসি ঠিক কী হওয়া দরকার সে বিষয়ে দেশে-বিদেশে কর্মরত বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং নাগরিক প্রত্যাশাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন ফয়েজ আহমদ। এই চার বিষয় হলো—
১। দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলে ভয়েস, ডেটা ও ডিজিটাল সেবার কভারেজ এবং ক্যাপাসিটি সম্প্রসারণ (যেখানে বাণিজ্যিক প্লেয়াররা যেতে চায় না, কিংবা তাদের বিনিয়োগ আনুপাতিক হারে কম)।
২। বাজার প্রতিযোগিতা সমুন্নত রাখা, সিগ্নিফিক্যান্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) ব্যালান্স ঠিক রাখা,
৩। গ্রাহক অনুকূলে মোবাইল কল ও ইন্টারনেট মূল্যমান সুরক্ষা এবং
৪। তরঙ্গ বরাদ্দ প্রক্রিয়াকে প্রতিযোগিতামূলক রাখা।’
আরএ


আপনার মতামত লিখুন