ঈদের আনন্দ যাদের স্পর্শ করে না

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:২৮
ঈদের আনন্দ যাদের স্পর্শ করে না

ঈদ মানেই নতুন জামা-কাপড়, আনন্দ আর উৎসব। কিন্তু সেই আনন্দ ছুঁয়ে যায় না চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার হাজারো শিশু-কিশোরকে। দারিদ্র্য আর অভাব-অনটনের কারণে তাদের ঈদ কাটে অন্য দিনের মতোই।

“ঈদে নতুন জামা-কাপড় না পেলে সারাদিন মন খারাপ থাকে। জামা না পেয়ে কাঁদলেও বাবা কিছুই করতে পারে না”—এভাবেই নিজের কষ্টের কথা বলছিল একলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের শিশু মোবারাক উল্যা (১০)।

আর মাত্র কয়েক দিন পরই ঈদ। চারদিকে উৎসবের আমেজ থাকলেও মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প ও বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর জীবনে নেই সেই আনন্দ। এখানে প্রায় ২ হাজারের বেশি শিশু-কিশোর ঈদের নতুন পোশাকের স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত।

উপজেলার একলাছপুর, বেলতলী, দুর্গাপুর, চরউমেদ ও ছোট চরকালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের বেশিরভাগই নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। জীবিকার প্রধান উৎস মাছ ধরা হলেও বর্তমানে মেঘনা নদীতে দুই মাসের (মার্চ-এপ্রিল) মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলছে। ফলে তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, বেড়েছে দুর্ভোগ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলোর পরিবারগুলো চরম অভাবের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। দিন এনে দিন খাওয়া এসব মানুষের কাছে ঈদের নতুন জামা-কাপড়, পোলাও-কোরমা বা সেমাই যেন বিলাসিতা। অধিকাংশ পরিবারই তাদের সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দিতে পারেনি।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মজিদা বেগম বলেন, “আমার স্বামী নদীতে মাছ ধরে যা পায়, তা দিয়েই কোনো রকমে পাঁচ সন্তান নিয়ে বেঁচে আছি। এখন মাছ ধরা বন্ধ, খাওয়াবো নাকি জামা কিনে দেবো?”

১৩ বছর বয়সী ইদ্রিস আলী জানায়, কোনো ঈদেই সে নতুন জামা পায় না। এতে তার মন খারাপ থাকে, কিন্তু পরিবারের বাস্তবতা তাকে তা মেনে নিতে বাধ্য করে।

দুর্গাপুর আশ্রয়ণের বাসিন্দা নার্গিস আক্তার (৯) জানায়, এবারের ঈদেও নতুন জামা না পেয়ে সে খুবই হতাশ।

এখলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশিরভাগ পরিবার জেলে হওয়ায় মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের কষ্ট বেড়ে যায়। সরকারিভাবে কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার ১০০ জন জেলে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে।