চট্টগ্রাম বন্দরমুখী সড়কে তিন স্থানে অবরোধ

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:৪৩
চট্টগ্রাম বন্দরমুখী সড়কে তিন স্থানে অবরোধ

বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইজারা চুক্তির প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরমুখী সড়ক অবরোধ করে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বন্দরমুখী তিনটি স্থানে অবরোধ করা হয়।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), লালদিয়ার চর ও পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরদের ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। ৯ দফা দাবি আদায় না হলে ৫ ডিসেম্বর সারাদেশে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। চট্টগ্রামে এই কর্মসূচি পালিত হবে পুরোনো রেলস্টেশন এলাকায়।

সকাল ১০টার দিকে নগরের ইছহাক ডিপো এলাকার টোলপ্লাজার অদূরে শতাধিক শ্রমিক সড়কে অবস্থান নেন। এ সময় সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশ তাদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। বেলা সোয়া ১১টার দিকে সড়ক ছেড়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

নগরের বড়পোল ও সল্টগোলা ক্রসিংয়ে সীম্যান্স হোস্টেলের সামনে কয়েকশ শ্রমিক-কর্মচারী অবস্থান নেন। তারা দুপুর ১২টার দিকে সড়ক ছেড়ে চলে যান। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে মিছিল ও সমাবেশ করেছে বন্দর রক্ষা পরিষদও।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারার পাঁয়তারা বন্ধের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন বাম সংগঠন মানববন্ধন ও মিছিল করেছে। বুধবার বিকেলে জেলা সিপিবি, বাংলাদেশ জাসদ ও বাসদের (মার্ক্সবাদী) উদ্যোগে প্রেস ক্লাব চত্বরে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
চুক্তির তথ্য প্রকাশের দাবি

বিভিন্ন বন্দর উন্নয়ন ও পরিচালনে বিদেশি বিনিয়োগ দেশের জন্য ইতিবাচক সংকেত হতে পারে। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এ উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বুধবার বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করছে টিআইবি। লালদিয়া এবং পানগাঁও টার্মিনাল চুক্তির সাম্প্রতিক প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে সংস্থাটি বলেছে, চুক্তি প্রক্রিয়া, শর্তাবলি ও অপারেটর নির্বাচনের যুক্তিসহ সব তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা সরকারের রয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আন্তর্জাতিক ফিন্যান্স করপোরেশন ট্রানজেকশন অ্যাডভাইজার হিসেবে যে সময়সীমা নির্ধারণ করেছিল, তাঁর তুলনায় খুব কম সময়ে লালদিয়া টার্মিনাল সম্পর্কিত ১০টি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অস্বাভাবিক দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন হয়। মাত্র দুই সপ্তাহে মূল্যায়ন, নেগোসিয়েশন, বোর্ড সভা, আইন ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং চুক্তি সই হওয়াকে তিনি ‘প্রশ্নবিদ্ধ দ্রুততা’বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, এ বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা অপরিহার্য।
(তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো ও প্রতিবেদক)