জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সার্ভেয়ার মীর্জা নুরে আলমের ঘুষ ও নারী কেলেঙ্কারী প্রকাশ্যে
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখায় ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু ভুক্তভোগীরা মূখ না খোলায় কোন কিছুই প্রকাশ্যে আসেনি। এবার প্রকাশ্যে আসল ওই শাখার সার্ভেয়ার মীর্জ নুরে আলমের ঘুষ বাণিজ্য ও নারী কেলেঙ্কারির মতো ঘটনা। এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে সরকারী কর্মকর্তা হয়েও ইয়াবা সেবনের মতো মাদককান্ডেও জড়িত এই কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে-কক্সবাজার বেশকিছু বাস্তবায়নাধিন প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত জমির অর্থ তুলে দেয়ার কথা বলে হাতিয়ে নেন কোটি কোটি টাকা। একই সঙ্গে অর্থ তুলে দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন নারীকে ফান্দে ফেলেন নুরুল আলম। এসব নারীকে সাথে নিয়ে জোরপূর্বক ইয়াবা সেবনে যোগ দেন জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার এই কর্মকর্তা।
জানা গেছে, প্রতিটি ফাইল থেকে ১৫ থেকে ৩০% পর্যন্ত কমিশন ছাড়া কোনো ফাইল ছাড় দিচ্ছে না অধিগ্রহণ শাখা। এই কমিশন আদায়ের জন্য সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। অধিগ্রহণ শাখার কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এই শ্রেণির দালাল নিয়ে এই সিন্ডিটেক গড়া হয়েছে। দালালরারই মূলত সব প্রসেস করে সার্ভেয়ার মীর্জা নুরে আলমের হাতে তুলে দেন। তারপর বাকি কাজ শেষ করেন আলম। তার বিনিময়ে নেন কোটি কোটি টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা জানান, ‘মহেশখালী মাতারবাড়ি-ধলঘাটাসহ জেলার বিভিন্ন জমি অধিগ্রহণকান্ডে ঘুষ বাণিজ্য করেছে আলম। সম্প্রতি দুজন দালালের মাধ্যমে অর্থ তুলে দেবেন বলে ৬ লাখ টাকা নেন। কিন্তু তিন মাসের বেশি সময় পর ভুক্তভোগীকে টাকা ফেরত দেন। যা ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে।
অনুসন্ধানে উঠে আসে, ভূমি অধিগ্রহণ শাখা ৩ এর এ বিতর্কিত সার্ভেয়ার মীর্জা নুরে আলম তার দুই সহকর্মী সার্ভেয়ার কামরুল আর কায়ুমকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট তৈরী করে৷ যেখানে ঘুষকাণ্ড ও নারী কেলেঙ্কারির মত ঘটনায় জড়িত হয়ে ও পার পেয়ে যাচ্ছেন৷ আর তারা তিনজনের এমন শক্তিশালী সিন্ডিকেট দিন দিন হয়ে উঠেছেন বেপরোয়া৷
অভিযুক্ত নুরুল আলমের বক্তব্য নিতে চাইলে সাক্ষাতে কথা হবে জানিয়ে ফোন কেটে দেয়। পরবর্তীতে তার দুই সহকর্মী সার্ভেয়ারকে নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানোর কথা বলে প্রতিবেদকের অফিসে আসেন। সেখানে প্রতিবেদক আলমের সাথে আসা দুই সার্ভেয়ারকে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করলে আলমের সঙ্গে কথা বলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ না করতে প্রতিবেদক অনুরোধ করেন আলমের সহকর্মী সার্ভেয়ার কায়ুম।
এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট এল এ শাখার ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম আরিফের কাছে জানতে চাইলে তিনি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন৷


আপনার মতামত লিখুন