তালেবান-পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক বদলের নেপথ্যে কী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৫
তালেবান-পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক বদলের নেপথ্যে কী

একসময় আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে গলায়-গলায় ভাব ছিল প্রতিবেশি পাকিস্তানের। অথচ তাদের সঙ্গে এখন পুরোদস্তুর যুদ্ধের ময়দানে নেমেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। অপরদিকে, ভারতের সঙ্গে একেবারেই বিপরীত সম্পর্ক ছিল তালেবানের। এমনকি ছিল না আদর্শগত কোনো মিল। তবে বর্তমানে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। কোন কারণে বন্ধু-শত্রুর এ সমীকরণে আমুল পরিবর্তন হলো।

গত কয়েকদিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলায় উত্তপ্ত পাকিস্তান-আফগান সীমান্ত। এরমধ্যেই সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে পাকিস্তান। তালেবানদের উসকে দিতে ভারত পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ছে বলে অভিযোগ তুলেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ।

তবে ভারত এই অভিযোগের জবাব না দিলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছে তালেবান প্রশাসন। এদিকে, রমজান মাসে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

ঐতিহাসিকভাবে তালেবানকে কখনোই সমর্থন করেনি ভারত। ১৯৯৬ সালে প্রথমবার তালেবান ক্ষমতায় গেলে দীর্ঘদিন কাবুলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক এড়িয়ে চলে নয়াদিল্লি। এমনকি ২০০১ সালে তালেবান বিরোধী মার্কিন অভিযানকে সমর্থনও জানায়।

অপরদিকে, ২০০৮ সালে ভারতীয় দূতাবাসে হামলা চালিয়ে ৫৮ জনকে হত্যা করেছিলো তালেবানরা। এমনকি, ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় এলে আবারও আফগানিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে ভারত।

কিন্তু শুরু থেকেই তালেবানের ঘোর বিরোধী ভারত কেন ইউটার্ন নিলো? গত কয়েক বছর ধরে দেখা যায় ধাপে ধাপে সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে ভারত ও আফগানিস্তান সরকারের মধ্যে। গত বছর অক্টোবর কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় চালু হয়। একইসাথে মুম্বাই আর হায়দ্রাবাদে কনস্যুলেট চালু করে তালেবান সরকার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আদর্শগত অমিল থাকলেও কৌশলগত কারণেই আফগানিস্তানকে পাশে চায় ভারত।

সেন্টার ফর আফগানিস্তান স্টাডিসের পরিচালক রাঘব শার্মা বলেন, প্রত্যেক রাষ্ট্র নিজ স্বার্থে অন্য দেশের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে। আদর্শগত মিল খুব কম থাকলেও ভারতের সাথে তালেবানের কৌশলগত মিল রয়েছে। এটিই তাদের সু-সম্পর্কের মূল কারণ।

অন্যদিকে, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক প্রভীন ডোন্থি বলেন, শুধুমাত্র আদর্শগত কারণে তালেবানের সাথে সুসম্পর্ক হাতছাড়া করতে চাইছে না নয়াদিল্লি। এতে প্রতিদ্বন্দী পাকিস্তান ও চীন কৌশলগত সুবিধা পেতে পারে।

কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বিভিন্ন সময় আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তাও দিয়ে আসছে ভারত। গেল বছর ৬ দশমিক ৩ মাত্রার ভূমিকম্পের পর দেশটিতে খাদ্য ও ওষুধ সহায়তা পাঠায় দেশটি। এর আগে কারজাই ও ঘানি সরকারের শাসনামলে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। যা স্কুল, হাসপাতাল, মহাসড়ক ও সংসদ ভবন নির্মাণে ব্যয় করে আফগানিস্তান।