থমকে আছে কাজ, দীর্ঘায়িত হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:২৯
থমকে আছে কাজ, দীর্ঘায়িত হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষের ভোগান্তি

কক্সবাজার শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে ভারুয়াখালী ইউনিয়ন। এর উত্তর পাশে ভারাইঙ্গা খাল, দক্ষিণ-পশ্চিমে জোয়ারী খাল মিশেছে বঙ্গোপসাগরে। ভারুয়াখালীসহ আশপাশের দুই-তিনটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষকে কক্সবাজার শহরে পৌঁছাতে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়। ১৫ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। এলাকাবাসীর স্বপ্ন ছিল, ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সংযোগ সেতু তৈরি হলে তাদের ভোগান্তি ঘুচবে। কিন্তু সেতুর দুই বছরের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। তিন ধাপে বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। ১৩টি স্প্যানের মধ্যে এ পর্যন্ত আটটি শেষ হয়েছে। বর্তমানে থমকে আছে কাজ। এর ফলে দীর্ঘ হচ্ছে ভোগান্তি।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, বছর ছয়েক আগে জোয়ারী খালের ওপর ৩৯২ মিটার দীর্ঘ ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সংযোগ সেতু তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার। এলজিইডি ২০১৯ ও ২০২০ সালে দুই দফা দরপত্র আহ্বান করলে কাজ পায় তমা কনস্ট্রাকশন ও এম এ জাহের (জেবি) লিমিটেড। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে কাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ৩৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। দুই বছর আগে মেয়াদ শেষ হলেও সেতুটি নির্মাণ হয়নি। এরপর ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এই সময়েও কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। এই মেয়াদেও সেতুর কাজ শেষ হয়নি।

এলজিইডির তথ্যমতে, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ৭০ শতাংশ। এলাকাবাসী জানিয়েছেন, খালের ওপর মূল কাজ এখনও শুরু হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী কুমিল্লা-৫ আসনের সাবেক এমপি এমএ জাহের গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে। এর ফলে সেতুর নির্মাণকাজ অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে নতুন করে দেখা দিয়েছে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা।

সোমবার সরেজমিন দেখা গেছে, সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ। ৪-৫ শ্রমিক নির্মাণসামগ্রী গুছিয়ে রাখছেন। সেখানে কথার বলার মতো দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রকল্পের ব্যবস্থাপক আনিসুর রহমান সমকালকে বলেন, সেতুর কাজ বন্ধ হয়নি; চলছে। ১৩টির স্প্যানের মধ্যে আটটির নির্মাণকাজ শেষ। দুটির কাজ চলমান। আশা করি আগামী ৯ মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারব।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হামিদ বলেন, ‘ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সেতু না হওয়া পর্যন্ত কক্সবাজার থেকে কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার সদরে যেতে হয় নৌকাসহ অন্যান্য যানবাহনে। এতে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। এ ছাড়া যোগাযোগ উন্নত হলে এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও বাড়ত। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণ শেষ করার দাবি জানাচ্ছি।’

ভারুয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘সেতুটির জন্য ভোগান্তিতে আছে হাজার হাজার মানুষ। সেতুটি হলে মাত্র ১৫ মিনিটে নিরাপদে কক্সবাজার শহরে পৌঁছানো যাবে।’
এলজিইডির কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান বলেন, ‘নির্মাণকাজের গতি বিভিন্ন কারণে কমে গেছে। দ্রুত কাজ শেষ করতে সর্বশেষ গত ৬ নভেম্বর চিঠি দিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেতুর পশ্চিম পাশে সংযোগ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসনকে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অধিগ্রহণ করতে না পারলে সেতু নির্মাণ নিয়ে আবার নতুন সংকটে পড়তে হবে।’
এ বিষয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে জমি অধিগ্রহণ শেষ হবে।’