প্রবাসে নারী কর্মী কমেছে ৫৭ শতাংশ, নেপথ্যে মারধর-ধর্ষণসহ নানা নির্যাতন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:৩৪
প্রবাসে নারী কর্মী কমেছে ৫৭ শতাংশ, নেপথ্যে মারধর-ধর্ষণসহ নানা নির্যাতন

খাবার না দেয়া, মারধর করা, ধর্ষণ কিংবা যৌন হয়রানি; ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে বিদেশ গিয়ে এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছেন বহু নারী। কেউ আবার ফিরেছেন লাশ হয়ে। এসব ঘটনার মধ্যেই গত তিন বছরে প্রবাসে যাওয়া নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫৭ শতাংশ। এই ছন্দপতন ঠেকাতে নারীকর্মীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা ও দক্ষতা উন্নয়নের পরামর্শ অভিবাসন সংশ্লিষ্টদের।

ভাগ্য বদলের স্বপ্নে বদলে গেছে জীবনের গল্প। এখন কেবল বয়ে বেড়াচ্ছেন তিক্ত অভিজ্ঞতার ঝুলি। গৃহকর্মীর কাজে সৌদি আরব গিয়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন অনেক নারীই। সেখানে তাদের দেয়া হত না খাবার, চলতো মারধর, যৌন হয়রানি।

কোনোমতে ফিরেছেন দেশে, তবে দেশে ফিরেও খুব একটা সহায় হয়নি ভাগ্য, প্রতিনিয়ত দেখতে হচ্ছে সমাজের বাঁকা চাহুনি। ভুক্তভোগী নারীরা বলছেন, বিদেশে প্রতিবাদ করলেই বলা হত, ‘টাকা দিয়ে কিনেছি তোদের’। এখন দেশেও সমাজে সবাই বাঁকা চোখে দেখে। কোনো মূল্য দেয় না কেউ।
বিদেশে নারী কর্মীদের এমন হয়রানি ও অত্যাচার নিয়ে নানান সমালোচনার মাঝে কমছে বিদেশগামী নারীদের সংখ্যা। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য, করোনার পর ২০২২ সালে দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পরিমাণ নারী কর্মী প্রবাসে যান। এরপর ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় তিন বছরে নারী কর্মীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫৬.৬ শতাংশ।
নারী কর্মীর সংখ্যা কমার পেছনে দক্ষতার ঘাটতি ও নারী নির্যাতনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে অভিবাসী বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রামরু। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মেরিনা সুলতানা বলেন, বিদেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে অনেক নারী দেশে ফিরে আসছেন। এ পরিস্থিতি মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাই বিদেশে নারী কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি নারী গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে যাচ্ছেন। তবে সেখানেই সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়। তাই অভিবাসন বিশ্লেষকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যেখানে নারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি কম এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব, এমন দেশে নারীদের বহুমুখী খাতে পাঠানো উচিত।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, ‘আমাদের দেশের অধিকাংশ নারী বিদেশে গৃহকর্মী হিসেবে যায়। সেখানে অনেকেই নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নারীদের গার্মেন্টসসহ এমন খাতে পাঠানো উচিত, যেখানে তারা অনেকের সঙ্গে মিশে কাজ করতে পারবে এবং নিরাপদ বোধ করবে।’
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ বছরে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ নারী কর্মী বিদেশে গিয়েছেন। তবে এই সময়ে কতজন নারী, কী অবস্থায় দেশে ফিরেছেন তার সঠিক তথ্য নেই সংশ্লিষ্ট সরকারি কোনো দফতরে।