ফিতরা কী? ইসলাম ধর্মে এর হিসাব কীভাবে করা হয়
ঈদুল ফিতর মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবগুলোর একটি। এই ঈদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, সদকাতুল ফিতর। যা বাংলাদেশে বেশি পরিচিত ‘ফিতরা’ নামে। আরবিতে একে বলা হয় ‘যাকাতুল ফিতর’।
রমজান মাস শেষে ঈদের আগে ফিতরা আদায় করা প্রত্যেক সচ্ছল মুসলমানের ওপর ওয়াজিব (বাধ্যতামূলক)। নারী-পুরুষ, প্রাপ্তবয়স্ক-অপ্রাপ্তবয়স্ক সবার পক্ষ থেকেই ফিতরা দিতে হয়। পরিবারের কর্তা নিজের পাশাপাশি যারা তার ওপর নির্ভরশীল যেমন স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা তাদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করবেন।
কেন দেওয়া হয় ফিতরা
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, রোজা পালনের সময় অনিচ্ছাকৃত কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা পরিশুদ্ধ করার একটি উপায় হলো ফিতরা। একই সঙ্গে সমাজের দরিদ্র মানুষ যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, সে ব্যবস্থাও এতে রাখা হয়েছে।
হাদিসে বলা হয়েছে, ফিতরা রোজাদারকে অশোভন কাজ থেকে পবিত্র করে এবং দরিদ্রদের খাদ্যের ব্যবস্থা করে। তাই ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নামাজের পর দিলে তা সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হয়।
কীভাবে নির্ধারণ হয় ফিতরার পরিমাণ
ফিতরা নির্ধারণের ক্ষেত্রে পাঁচ ধরনের খাদ্যপণ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। সেগুলো হলো- গম বা আটা, যব, কিসমিস, খেজুর ও পনির। ইসলামের প্রাথমিক যুগে ‘সা’ নামে একটি নির্দিষ্ট পরিমাপের ভিত্তিতে এই হার ঠিক করা হতো।
বর্তমানে গমের ক্ষেত্রে অর্ধ সা (প্রায় ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম) এবং অন্য চারটি পণ্যের ক্ষেত্রে এক সা (প্রায় ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম) ধরা হয়। এই পরিমাণ খাদ্য অথবা তার সমমূল্যের অর্থ দিয়েও ফিতরা আদায় করা যায়।
বাংলাদেশে ফিতরার হার
বাংলাদেশে প্রতিবছর বাজারদরের ভিত্তিতে ফিতরার হার নির্ধারণ করে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ। চলতি বছরে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৪০ টাকা।
হার অনুযায়ী গম বা আটা ১১৫ টাকা, যব ৩৯৬ টাকা, কিসমিস ১ হাজার ৬৫০ টাকা, খেজুর ১ হাজার ৯৮০ টাকা এবং পনির ২ হাজার ৬৪০ টাকা। সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো একটি পণ্য বা তার বাজারমূল্য দিয়ে ফিতরা দেওয়া যাবে।
যাকাতের সঙ্গে পার্থক্য
যাকাত সম্পদের নির্দিষ্ট অংশের ওপর নির্ভর করে এবং বছরের যেকোনো সময় আদায় করা যায়। কিন্তু ফিতরা নির্দিষ্ট পরিমাণ এবং রমজান ও ঈদের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সম্পদের পরিমাণ বেশি বা কম, ফিতরার অঙ্ক একই থাকে।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ফিতরা শুধু দান নয়। এটি একটি সামাজিক দায়িত্বও। ঈদের আগে দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং সমাজে সমতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই বিধানের মূল উদ্দেশ্য।


আপনার মতামত লিখুন