মাটিতে নামলে মার্কিন সেনাদের পাখির মতো গু/লি করবে ইরান
পারস্য উপসাগরের কোনো ইরানি দ্বীপ দখলে যদি মার্কিন মেরিন ও প্যারাট্রুপারদের পাঠানো হয়, তবে তারা কার্যত এক ‘লাইভ শুটিং গ্যালারি’তে ঢুকে পড়বে—এমনটাই মনে করছেন সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযানে সরবরাহ লাইন দুর্বল থাকবে এবং কৌশলগত লক্ষ্যও স্পষ্ট নাও হতে পারে, ফলে শুরুতেই বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকবে।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের দ্বীপে সম্ভাব্য হামলা শুরু হবে ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মাধ্যমে—রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল করে—এরপর চালানো হবে ব্যাপক বোমা হামলা। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর সাবেক চিফ অব স্টাফ সেথ ক্রামরিচ বলেন, প্রথমে প্রস্তুতি ও বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান চালানো জরুরি। বর্তমানে তিনি গ্লোবাল গার্ডিয়ান নামের একটি বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।
সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে কয়েকটি দ্বীপের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। এর মধ্যে খারগ দ্বীপ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যেখান থেকে ইরানের বড় অংশের তেল রপ্তানি হয়। এছাড়া আবু মুসা ও তার আশপাশের ছোট দ্বীপগুলো এবং কেশম দ্বীপও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কেশম দ্বীপটি সবচেয়ে বড় এবং এখানে সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক থাকায় এটি দখল করা কঠিন বলে মনে করা হয়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, সরাসরি সমুদ্রপথে হামলার চেয়ে আকাশপথে আক্রমণের সম্ভাবনাই বেশি। সাবেক মার্কিন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ড্যানিয়েল ডেভিসের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে থাকায় বড় যুদ্ধজাহাজ নিয়ে অগ্রসর হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হবে। তাই হেলিকপ্টার ও ভি–২২ ওস্প্রে, চিনুক এবং ব্ল্যাক হক ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার করে সেনা নামানো হতে পারে।
মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন জোরদার করছে। প্রায় ৫ হাজার সেনাসহ দুটি মেরিন ইউনিট এবং ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্রায় ৩ হাজার প্যারাট্রুপার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তবে এই ধরনের অভিযানের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে উপসাগরীয় দেশগুলোর সহযোগিতার ওপর—যেমন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা কুয়েত তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেয় কি না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান “মোজাইক ডিফেন্স” নামে বিকেন্দ্রীকৃত প্রতিরক্ষা কৌশল ব্যবহার করতে পারে। এতে ছোট ছোট ইউনিট স্বতন্ত্রভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাতে সক্ষম হয়, যা বড় বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
এ ধরনের যুদ্ধে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো সরবরাহ ব্যবস্থা বজায় রাখা। সৈন্যদের জন্য খাদ্য, জ্বালানি, চিকিৎসা ও গোলাবারুদ সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষ করে যখন তারা শত্রু অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করে।
ইতিহাসের উদাহরণ টেনে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ বা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিছু ব্যর্থ অভিযানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেখানে প্রাথমিকভাবে অবস্থান দখল করা গেলেও তা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, ইরান পাল্টা আক্রমণাত্মক ভূমিকায়ও যেতে পারে। তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা, বন্দর বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের দ্বীপগুলো দখলের যেকোনো প্রচেষ্টা হবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে রূপ নিতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন