রায়পুর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই যেন রোগী
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র এখন অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। বহুদিন ধরে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের অভাবে সেবা কার্যক্রম চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নোংরা পরিবেশ ও প্রশাসনিক নজরদারির অভাব, যা রোগীদের ভোগান্তিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
প্রবেশ পথ থেকে হাসপাতাল চত্বর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে পলিথিন, প্লাস্টিক ও নানাবিধ বর্জ্য। চারপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনায় শ্বাস নিতে কষ্ট হয় রোগী ও স্বজনদের। রোগীদের জন্য যেখানে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে এই নোংরা পরিস্থিতি স্বাস্থ্যঝুঁকিকেই আরও বাড়িয়ে তুলছে।
৩০ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ১৩ জন। ২৪টি ওয়ার্ডবয়, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৮ জন। ফলে প্রতিদিন ৮০-৯০ জন ভর্তি রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
দুইটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনই বিকল অবস্থায় রয়েছে। ফলে ২০০ টাকার সেবা পেতে রোগীদের ক্লিনিকে গিয়ে গুণতে হচ্ছে ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা। ২০২২ সালে এক্সরে মেশিন চালু হলেও এখনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি এক্সরে টেকনিশিয়ান। চিকিৎসকরা চাঁদা তুলে বাইরে থেকে টেকনিশিয়ান এনে চালাচ্ছেন সেবা।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র সেবিকা ইয়াসমিন বলেন, চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে প্রতিদিন রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, আমাদের ইচ্ছা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গাইনি চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থেমে আছে। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন মেরামতের চেষ্টা চলছে। এক্সরে চালু থাকলেও টেকনিশিয়ান না থাকায় বাইরে থেকে এনে সেবা চালাতে হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন