শব্দ শুনে মোটরসাইকেল মেরামত করেন দৃষ্টিহীন হোসেন আলী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:২৭
শব্দ শুনে মোটরসাইকেল মেরামত করেন দৃষ্টিহীন হোসেন আলী

চোখে দেখেন না। ঠিকই শব্দ শুনেই গাড়ির সমস্যা বুঝে মেরামত করতে পারেন অন্ধ মোটরসাইকেল মেকানিক হোসেন আলী। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরশহরের কে এম লতিফ সুপার মার্কেটে ছোট একটি ভাড়া দোকানে মেকানিকের কাজ করেন

পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দশ বছর আগে ব্রেন স্ট্রোকের পরে চোখে সমস্যা দেখা দিয়েছে। তারপরই চিকিৎসার অবহেলায় অন্ধত্ব বরণ করেন। তবে ৫০ বছর বয়সেও দমে যাননি আলী হোসেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি যেকোনো প্রতিবন্ধকতাকেই হার মানানোর প্রমাণ দিয়েছেন হোসেন আলী। জীবন যুদ্ধে সেই নিজেই প্রকৃত হিরো। কারও অনুদান কিংবা সাহায্যেরও প্রয়োজনও হয়নি তার। কিন্তু এখন সেই আগের মতন আয় রোজগার নেই। দৈনিক ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা আয় করলেও কোন কোন দিন খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। বছরে দুইবার ইনজেকশন নিতে হয় চোখের জন্য যার খরচ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। বাবার সহযোগী একমাত্র ছেলে। তারও কিডনিতে সমস্যা হয়েছে।

ভাইয়ের দোকানে ৯ বছর বয়সে হাতেখড়ি হয় মোটরসাইকেল ও জেনারেটরের মেরামতের কাজ। এরপর মেকানিকের কাজ আস্তে আস্তে রপ্ত করেন। শব্দ শুনেই সমস্যাগুলো ধরেন এবং সেগুলো মেরামতের কাজ করেন। নিজ জীবন সম্পর্কে এভাবেই জানাচ্ছিলেন- অন্ধ মোটরসাইকেল মেকানিক হোসেন আলী।

হঠাৎ বাসে আগুন, লাফিয়ে প্রাণে বাঁচলেন চালক
মোটরসাইকেল মেরামত করতে আসা বাইক চালক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, মানুষ বিশ্বাস করে যন্ত্রপাতি মোটরসাইকেল মেরামত করান। চোখে দেখেন না তিনি তারপরও নির্ভুলভাবে কাজ করেন। অভিজ্ঞ এবং অনেক পুরোনো লোক তাই এখানে অনেকেই কাজ করাতে ছুটে আসে। আমার গাড়ি মেরামত করতে সবসময় তার কাছে আসি। ইঞ্জিনের যাবতীয় কাজসহ বাইকের সকল কাজ তিনি করতে পারেন।

পৌর শহরের বাসিন্দা শিবু মজুমদার আরটিভিকে বলেন, হোসেন আলীর দুই ছেলে-মেয়ে। স্ত্রী সালমা বেগমের একটি কিডনি নষ্ট। তিন মাস পর পর ২ হাজার ৫০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও সেটা এই দুর্মূল্যের বাজারে খুবই সীমিত। সমাজের বিত্তবানদের উচিত অন্ধ হোসেন আলীর পাশে দাঁড়ানোর।

উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. শফিকুল আলম বলেন, হোসেন আলীকে সমাজসেবা অফিস প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দিয়েছি। শুনেছি তিনি একজন ভালো মোটরসাইকেল মেকানিক। অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করতে পারলে তাকে অবশ্যই দেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ূম বলেন, হাসেন আলী একজন প্রতিভাবান মোটর মেকানিক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় তাকে আমরা সহযোগিতা করে যাচ্ছি। পারিবারিক যে সমস্যার বিষয় আমার নলেজে এসেছে আমি সহযোগিতা করবো।

Copied from: https://rtvonline.com/