শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্রে বাদীর নারাজি
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলায় পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে নারাজি দিয়েছেন বাদী।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এই নারাজি আবেদন দেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। বাদীপক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ গত ৬ জানুয়ারি মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত ৬ আসামি পলাতক। বাকি ১১ আসামি কারাগারে আছেন।
পলাতক আসামিরা হলেন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ, তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেন, তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পি, ফিলিপ স্নাল ফিলিপস, মুক্তি আক্তার ও ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।
কারাগারে থাকা আসামিরা হলেন ফয়সাল করিমে বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মুফতি মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবির, সিবিয়ন দিউ, সঞ্জয় চিসিম, মো. আমিনুল ইসলাম ওরফে রাজু ও মো. ফয়সাল।
মামলায় বলা হয়, ওসমান হাদি গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করেন। তিনি সংগঠনটির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা গত ১২ ডিসেম্বর বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তাঁর মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলি লাগে। তিনি মারাত্মক জখম হন। পরে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় গত ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। পরে এটা হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।


আপনার মতামত লিখুন