শাক ভাজি আর পান্তা ভাতে তাদের ইফতার
চারদিকে যখন ইফতারের রাজকীয় আয়োজন আর হরেক পদের খাবারের ঘ্রাণ, তখন কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তার দুর্গম চরাঞ্চলে চিত্রটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে ইফতার মানে এক মুঠো শুকনো চালভাজা, একটু শাক ভাজি কিংবা বাসি পান্তা ভাত আর কাঁচামরিচ। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারানো শত শত পরিবারের কাছে ফলমূল বা পুষ্টিকর নাশতা তো দূরের কথা, সাহ্রিতে একটু মাছ-মাংস জোটানোও যেন আকাশের চাঁদ হাতে পাওয়ার মতো অবস্থা।
উপজেলার তিস্তা নদী-তীরবর্তী চর গতিয়াশাম ও চর নাখেন্দা গ্রাম ঘুরে দেখা যায় দারিদ্র্যের এক বিদীর্ণ প্রতিচ্ছবি। চরের বালু আর বাতাসের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা মানুষগুলোর কাছে রমজান মানে কেবল ত্যাগের নয়, বিশাল ধৈর্যের এক পরীক্ষা। নদীভাঙনে নিঃস্ব পরিবারগুলো এখন বাঁধের রাস্তায় আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদেরই একজন ছালেহা বেওয়া (৬৫)। চর গতিয়াশাম গ্রামের এই নারীর ঘরে দুই স্বামী পরিত্যক্ত মেয়ে আর নাতি-নাতনি। উপার্জন করার মতো কোনো পুরুষ নেই পরিবারে। ইফতারের সময় তাঁর সম্বল কেবল সামান্য চালভাজা। তিনি বলেন, ‘হ্যামরা খুব গবির মানুষ, কামাই করার কেউ নাই। নাতি-পুতিন নিয়া এই চাউল ভাজা দিয়েই রোজা ভাঙি।’ একই গ্রামের খাদিজা বেগম (৪৫) বলেন, অভাবের সংসার, ক্ষেত খামারে কামলা দেই। তিনটা ছেলে ও মাকে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাই। চাল ভাজা করেছি তা দিয়ে ইফতার করব।’
সাবেক ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম জানান, পরিবারগুলো একসময় সচ্ছল ছিল। তিস্তার করাল গ্রাসে জমি হারিয়ে তারা এখন যাযাবর। বাঁধের রাস্তায় ঝুপড়ি ঘরে তাদের বসবাস। ইফতার থেকে সাহ্রি–প্রতিটি মুহূর্তই তাদের কাটছে গভীর খাদ্য সংকটে।
ইউএনও আল ইমরান বলেন, ‘সরকারিভাবে ইফতারের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ থাকে না। এটি একটি অত্যন্ত মানবিক বিষয়, তাই আমি খোঁজ নিয়ে তাদের কোনোভাবে সহযোগিতা করা যায় কিনা, তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।’
চর নাখেন্দার খাদিজা বেগম কিংবা ছালেহা বেওয়াদের কাছে ইফতার মানে শুধু ক্ষুধা নিবারণ নয়, বরং বেঁচে থাকার এক অসম লড়াই। মানবিক সংস্থাগুলোর একটুখানি সহানুভূতিই বদলে দিতে পারে তাদের পানসে পান্তা ভাতের ইফতারকে।


আপনার মতামত লিখুন