স্বর্ণের ঐতিহাসিক উত্থান -প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্সের দাম ৪ হাজার ডলার ছাড়াল

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:২৫
স্বর্ণের ঐতিহাসিক উত্থান -প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্সের দাম ৪ হাজার ডলার ছাড়াল

স্বর্ণের দামের রেকর্ড ভাঙা উত্থান অব্যাহত রয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ সম্পদে আশ্রয় খুঁজছেন, সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাও বাজারকে উৎসাহিত করছে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) স্পট গোল্ডের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪,০১১.১৮ ডলারে। ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দামও ০.৭ শতাংশ বেড়ে হয় ৪,০৩৩.৪০ ডলার প্রতি আউন্স।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ; ২০২৪ সালে যা বেড়েছিল ২৭ শতাংশ। ঐতিহ্যগতভাবে অস্থির সময়ের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে।

স্বাধীন ধাতুবাজার বিশ্লেষক তাই ওয়ং বলেন, এই মুহূর্তে বাজারে এই ট্রেডে বিপুল আস্থা তৈরি হয়েছে। ফেড আরও সুদের হার কমাবে বলে বাজার এখন ৫,০০০ ডলারের পরবর্তী লক্ষ্য ধরেছে।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্য বা ইউক্রেনে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মতো কিছু সাময়িক প্রভাব থাকতে পারে, তবে বিশাল ঋণের বোঝা, রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণ এবং দুর্বল ডলার—এই মৌলিক কারণগুলো মাঝারি মেয়াদে বদলাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার কমার প্রত্যাশা, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয়, এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ডে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুর্বল ডলার—এই সব মিলেই স্বর্ণকে শক্তিশালী করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কার্যক্রম স্থগিত (শাটডাউন) সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচক প্রকাশ বিলম্বিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর করছেন ফেডের পরবর্তী পদক্ষেপ অনুমান করতে। বাজারে এখন প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ফেড এই মাসেই ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদ কমাবে এবং ডিসেম্বরেও আরও ২৫ বেসিস পয়েন্ট হ্রাস করতে পারে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, অনিশ্চয়তা বেড়ে গেলে স্বর্ণের দাম বাড়ে—এটি আমরা আবারও দেখতে পাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার হ্রাস ও সরকারি শাটডাউন উভয়ই এখন স্বর্ণের পক্ষে কাজ করছে, যদিও ৪,০০০ ডলার সীমায় কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখাতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এখন ‘মিস করে যাওয়ার ভীতি’ (ফিয়ার অব মিসিং আউট) থেকেও ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে।

একই সঙ্গে ফ্রান্স ও জাপানের রাজনৈতিক অস্থিরতাও স্বর্ণের চাহিদা বাড়িয়েছে।

ক্যাপিটাল ডটকমের বিশ্লেষক কাইল রোডা বলেন, সপ্তাহান্তে সানায়ে তাকাইচির নির্বাচনের পর জাপানে বাড়তি ঘাটতি ব্যয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা বর্তমানে চলমান ‘রান ইট হট’ ট্রেড প্রবণতাকে আরও জোরদার করেছে।

বাজারবিশ্লেষকদের ধারণা, স্বর্ণ-সমর্থিত ইটিএফে প্রবাহ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমার সম্ভাবনা ২০২৬ সাল পর্যন্ত স্বর্ণের দামকে আরও শক্তিশালী করবে। ইতিমধ্যেই গোল্ডম্যান স্যাকস ও ইউবিএস তাদের মূল্য পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।

অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট সিলভার ১.৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৪৮.৪২ ডলার প্রতি আউন্সে, প্লাটিনাম ২.৫ শতাংশ বেড়ে ১,৬৫৮.৪০ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১.৮ শতাংশ বেড়ে ১,৩৬১.৮৯ ডলার প্রতি আউন্সে।