কক্সবাজার কর অঞ্চল’র কর কমিশনার মর্তুজা শরিফুল ইসলাম বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
কক্সবাজার কর অঞ্চলের কর কমিশনার মর্তুজা শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদের অপব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনে অনিয়মের নানা অভিযোগ উঠেছে। ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সরকারি দপ্তরের গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহার, অফিস সময়ের বাইরেও দাপ্তরিক গাড়ি ও সরকারি তেল ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া এবং কয়েকজন কর্মচারীকে ব্যক্তিগত কাজে নিয়োজিত রাখার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত ১৫ অক্টোবর কক্সবাজারের ইনানী রয়েল রিসোর্টে ঢাকা কলেজের ১৯৯২ সালের এইচএসসি ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থীদের দুই দিনব্যাপী পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে কর কমিশনার মর্তুজা শরিফুল ইসলাম নিজে উপস্থিত ছিলেন। এ আয়োজনকে ঘিরে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আর্থিক ব্যয় বহনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে আসা অতিথিদের যাতায়াতে কক্সবাজার কর অঞ্চলের দাপ্তরিক গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, সরকারি অফিস সময়ের বাইরে টানা কয়েক দিন কর অঞ্চলের দাপ্তরিক গাড়ি ও সরকারি জ্বালানি ব্যক্তিগত ও সামাজিক অনুষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ১৫ অক্টোবর থেকে পরবর্তী কয়েক দিন সরকারি গাড়ি ও তেল ব্যবহার করে কর কমিশনারের বন্ধু ও পরিচিতদের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। এতে সরকারি জ্বালানি ও যানবাহন ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহারের অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
এ ছাড়া শুক্রবারসহ অফিসের নির্ধারিত সময়ের বাইরে কয়েকজন কর্মচারীকে আয়কর বিভাগের নির্ধারিত পোশাক পরিয়ে ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রাখার অভিযোগও উঠেছে। রাজস্ব বিভাগের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পোশাক ও কর্মচারীদের এভাবে ব্যক্তিগত আয়োজনে ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তা সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও জবাবদিহি থাকা প্রয়োজন। অথচ ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সরকারি গাড়ি, জ্বালানি ও জনবল ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে কর অঞ্চলের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, করদাতাদের সেবা প্রদানে কর কমিশনারের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে জানতে কক্সবাজার কর অঞ্চলের কর কমিশনার মর্তুজা শরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য একাধিকবার কলদিলে ও মুঠফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি৷ সাথে অভিযোগের বিষয়ে বার্তাও পাঠানো হয়েছে একই নাম্বরে৷ বার্তা পাঠিয়েও কোন উত্তর মেলেনি৷


আপনার মতামত লিখুন