গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযান, ভুয়া খতিয়ানে পাসপোর্ট! সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর মোবাইল কোর্টে তরুণী আটক
কক্সবাজারে পাসপোর্ট তৈরির জন্য ভুয়া খতিয়ান ব্যবহার করার অভিযোগে শাবনুর আক্তার (২০) নামে এক তরুণীকে হাতে-নাতে আটক করেছে মোবাইল কোর্ট। খুরুশকুল মৌজার বিএস ১০৩৩ নম্বর খতিয়ানের একটি কপি ব্যবহার করে পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তবে খুরুশকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সংরক্ষিত বালাম বহিতে ওই খতিয়ানের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মশিয়ুর রহমানের পরিচালিত মোবাইল কোর্টে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে শাবনুরকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তবে অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দণ্ডবিধির ৪৬৫ ধারাটি মোবাইল কোর্টের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় তাকে নিয়মিত মামলার মাধ্যমে বিচারের জন্য কক্সবাজার সদর মডেল থানায় পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের আদেশনামায় বলা হয়েছে, মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে শাবনুরকে ভুয়া খতিয়ানসহ পাওয়া যায়। তিনি খুরুশকুল মৌজার বিএস ১০৩৩ নম্বর খতিয়ানের একটি কপি সংগ্রহ করে অবৈধভাবে পাসপোর্ট করার চেষ্টা করেন। পরে খুরুশকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সংরক্ষিত বালাম বহিতে ওই খতিয়ানের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
আদেশনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে জব্দকৃত বিএস ১০৩৩ নম্বর খতিয়ানটি তৈরি করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪৬৫ ধারার অপরাধের আওতাভুক্ত। কিন্তু দণ্ডবিধির ৪৬৫ ধারা মোবাইল কোর্টের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় বিষয়টি উপযুক্ত আদালতে বিচারের জন্য নিয়মিত মামলা করা প্রয়োজন।
এ কারণে আটক শাবনুর এবং জব্দ করা আলামতসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আদেশনামাটি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা (এফআইআর) রুজু এবং মামলার অগ্রগতি আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে এ ঘটনায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন খুরুশকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মিজবাহ উদ্দিন। এজাহারে শাবনুর আক্তারকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, শাবনুর খুরুশকুল মৌজার বিএস ১০৩৩ নম্বর খতিয়ানের ভুয়া কপি সংগ্রহ করে অবৈধভাবে পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করেন। খুরুশকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং কক্সবাজার সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সংরক্ষিত বালাম বহি যাচাই করে ওই খতিয়ানের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, শাবনুর তার পিতার নামে ভুয়া খতিয়ান তৈরি করেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক ১টা ১০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার সদর মডেল থানাধীন সদর উপজেলা ভূমি অফিসে ভুয়া খতিয়ানসহ তাকে হাতে-নাতে আটক করা হয়। পরে তাকে কক্সবাজার থানায় সোপর্দ করা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই খতিয়ানে তার পিতার নাম জালিয়াতির মাধ্যমে সংযুক্ত করে পাসপোর্ট তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে ভুয়া খতিয়ান তৈরির সঙ্গে শাবনুর আক্তার নিজেই জড়িত, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র রয়েছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়। পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়ায় ওই নথি কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং জাল খতিয়ানের উৎস কোথায়, তদন্তে এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্তে ভুয়া খতিয়ান তৈরির সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাগেছে৷


আপনার মতামত লিখুন